পলাশবাড়ীতে ৫৬৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু গ্রেফতার
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রাইগ্রাম এলাকায় র্যাব-১৩ এর সফল অভিযানে ৫৬৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া (৩০) গ্রেফতার হওয়ায় পুরো এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, মিন্টু রাইগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে সক্রিয় ছিল এবং তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
শনিবার সকালে র্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে রাইগ্রামের একটি কাঁচা সড়কে অভিযান চালিয়ে মিন্টুকে আটক করা হয়। এসময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল তল্লাশি করে ৫৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেল, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং নগদ ২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি, সরবরাহ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। কয়েক মাস আগে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুললে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও ওঠে। ফলে তার গ্রেফতারকে সাধারণ মানুষ শুধু একজন মাদক কারবারির আটক হিসেবে নয়, বরং একটি আতঙ্কের অবসান হিসেবেও দেখছেন।
তবে সচেতন মহল বলছে, শুধু মিন্টুর গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়; তার পেছনে থাকা মূল গডফাদার, সরবরাহকারী চক্র ও সহযোগীদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, রাইগ্রাম ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে আরও বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে, যারা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা বাড়তে থাকায় তরুণদের একটি অংশ ভয়াবহভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তারা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, পুরো সিন্ডিকেট ও নেপথ্যের গডফাদারদের বিচারের আওতায় আনতে পারলেই পলাশবাড়ীকে সত্যিকার অর্থে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে। মিন্টুর গ্রেফতার সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে আরও ব্যাপক ও ধারাবাহিক অভিযান এখন সময়ের দাবি।

Post a Comment