MK TV NEWS STATION (শেকড়ের সন্ধানে...)

Latest Post


 

ভুরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগ

৪ দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি কিশোরী, মামলা রেকর্ড না হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ

গোলাম মোস্তফা, ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি ওই কিশোরী। এদিকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড না হওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

জানা গেছে, গত ১৯ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলার বাগভান্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অপহৃত শিক্ষার্থীর বাবা মোঃ আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অপহৃত কিশোরী ভুরুঙ্গামারী মহিলা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় কামাত আঙ্গারীয়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মোঃ শাকিল হোসেন (২০) তাকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পরিবারকে জানালে মেয়ের বাবা অভিযুক্তের পরিবারকে অবহিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে অপহরণ এবং খুন-জখমের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে গত ১৯ মে সকালে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে শাকিল হোসেন, মোঃ শাহাদৎ হোসেন (১৯) ও আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ লিটন মিয়া (৩৫) ও মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (৪০)-এর মাধ্যমে জানতে পারেন, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত শাকিলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,
“সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও মেয়ের সন্ধান পাইনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। আমি আমার মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, অপহরণের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে এখনো কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করা হয়নি।”

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

গ্যাস সিলিন্ডারে লুকিয়ে ৮ কেজি গাঁজা ও ১৯৩ পিস ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

গোলাম মোস্তফা, ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকায় অভিনব কৌশলে খালি গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে গাঁজা পাচারের সময় দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

পুলিশ জানায়, ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাস-এর সরাসরি উপস্থিতিতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে কচাকাটা থানাধীন তালতলা এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে তার জিম্মায় থাকা একটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার তল্লাশি করে অভিনব পদ্ধতিতে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. সুজন মিয়া (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি কচাকাটা থানার শোভার কুঠি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. শামসুল হক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাঁজাগুলো ঢাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে বিশেষ কৌশলে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরে সিলিন্ডারটি কেটে ভেতর থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই দিনে কচাকাটা থানাধীন নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট সীমান্ত এলাকায় পৃথক আরেক অভিযানে নৌকাযোগে আসা এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. মোন্নাফ (৩৬) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বালারহাট এলাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোন্নাফ পুলিশকে জানান, তিনি কচাকাটা থানাধীন নারায়ণপুর ইউনিয়নের কথিত মাদক ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম ভাষার পক্ষে নিয়মিত মাদক পরিবহনের কাজ করতেন।

ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

 


 

দুটি আম পাড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ, অভিযুক্ত পলাতক

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছাদকৃষির গাছ থেকে দুটি আম পাড়াকে কেন্দ্র করে মোঃ আবদুল্ল্যাহ (১২) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক শিশুকে অমানবিকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ নুরনবী (৬২) পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে শিশুটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্নের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বসুরহাট বাসটার্মিনাল এলাকায় সাবেক ডিসি ইসমাইলের ভবনের চারতলায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত নুরনবী উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি ভবনের মালিক সাবেক ডিসি ইসমাইলের ভায়রা এবং ভবনটির দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস আগে মানসিক ভারসাম্যহীন শিশু আবদুল্ল্যাহ হঠাৎ বসুরহাট বাসটার্মিনাল এলাকায় চলে আসে। এরপর থেকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও এলাকাবাসী মিলে শিশুটির দেখাশোনা করে আসছেন।

বসুরহাট পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মাইনুল ইসলাম নাঈম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আবদুল্ল্যাহ ভবনের ছাদে উঠে ছাদকৃষির একটি আমগাছ থেকে দুটি আম পাড়ে। এ সময় নুরনবী তাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে রাতভর আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


 পার্বতীপুরে ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেফতার


শাহিনুর রহমান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : 


দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৬ কেজি গাঁজা ও একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনা জেলার সদর থানার শ্রীপুর বালী গ্রামের মৃত সালেক মিয়ার ছেলে আব্দুল জলিল মিয়া (২৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার কায়েমপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে সাকিব আহম্মেদ (২৫)।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে এসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহলদল উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন করছিল। এসময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে খবর পাওয়া যায়, ঝিনাইকুড়ি বাজারের কাবের মোড় এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পরে পিকআপ ভ্যানটি (ঢাকা মেট্রো-ন-১২-২৭৪৬) জব্দ করে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়।


এসআই নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছেন যে, তারা ঢাকার শনির আখড়া থেকে গাঁজা নিয়ে হাবড়া ইউনিয়নের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এর আগেও তারা আরও দুইবার একই এলাকায় গাঁজা নিয়ে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।


এ ঘটনায় এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।


পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জব্দকৃত গাঁজা, পিকআপ ভ্যান ও গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুরে পাঠানো হয়েছে।






শাহিনুর রহমান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নতুন কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত ৯ টায় পার্বতীপুরের লায়ন্স ক্লাব ভবনে অনুষ্ঠিত এক সাধারণ সভায় নবগঠিত কমিটির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়

সভায় লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লায়ন ডাঃ মোঃ মোফাক্ষারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পুরাতন কমিটির সদস্য সচিব মাহামুদুর রশিদ বাবুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাধারণ সদস্যদের ভোট মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন মোঃ আতিয়ার রহমান, কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন আফজাল হোসেন এবং সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন জেড এম ওয়াজেদুল হক

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর- আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জেড এম রেজওয়ানুল হক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সদস্য, লায়ন্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর- আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জেড এম রেজওয়ানুল হক বলেন, লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার পার্বতীপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ এখানে কম খরচে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। নতুন কমিটির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং সেবার মান বৃদ্ধি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে পার্বতীপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। নতুন কমিটির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন


 


ওমানে মর্মান্তিক মৃত চার সহোদরের জানাজায় হাজার মানুষের ঢল


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)  : ওমানে মর্মান্তিক মৃত চার সহোদরের জানাযায় হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। গত ১৯মে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে ওমান থেকে লাশ আসার পর পরিবারের পক্ষে ৪ সহোদরের লাশ রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি গ্রহন করেন। গ্রহনের পর গতকাল বুধবার রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার এলাকায় ভোর সকালে পৌছলে সাথে সাথে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দলে দলে লোকের সমাগম হতে থাকে। সকাল থেকে লালা নগর উচ্চ বিদ্যাদালয় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রের রূপ নেয়। ১১টায় জানাযা শুরুর পূর্বে প্রশাসন, পুলিশ, রাজনীতিবিদসহ এলাকায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগমে লোকে লোকারণ্যের পরিনত হয়। সকাল ১১টায় জানাযা শেষে ৪ সহোদরের লাশ বন্দারাজার পাড়া জমে মসজিদের পাশে ৪ ভাইকে পাশাপাশি কবরে শুয়ে দিয়ে দাফনের কাজ শেষ হয়।


উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ওমানে গাড়ির ভেতর বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের বিষক্রিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের। নিহতরা হলেন রাঙ্গুনিয়া লালা নগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। নিহতরা হলেন রাসেদুল ইসলাম (৪০), শাহেদুল ইসলাম (৩২), সিরাজুল ইসলাম (২৮) ও শহিদুল ইসলাম (২২)। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর বান্দারাজার পাড়া এলাকায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। নিহত বড় সন্তান রাসেদুল ইসলামের রেখে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক সন্তান ও তিন মাস বয়সী শিশুকে ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।


সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় ছিল মা ফরিদা বেগম (৫৫) সন্তানদের মৃতের খবর জানানো হয়নি অবদি পর্যন্ত। তিনি শুধু জানেন, তার ছেলেরা অসুস্থ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে কিছুক্ষণ পর পর মা জ্ঞান হারাচ্ছেন। ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে। একমাত্র জীবিত ছেলে এনামুল ইসলাম (২৫) মাকে কোনভাবে সান্ত্বনা দিয়ে রাখছেন।


অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে মরদেহ পৌছার পর, পরিবারের পক্ষে রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি লাশ গ্রহণ করে রাঙ্গুনিয়ার গ্রামের বাড়িতে লাশ সরকারি খরচে পৌছান।


মরদেহ হস্তান্তরের সময় হুমাম কাদের চৌধুরী, লাশবাহী গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


সাংসদ আরো জানান, প্রথমদিকে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায়, গাড়ির ত্রুটিপূর্ণ এয়ারকন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেম থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণেই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। 


বিদেশ থেকে মরদেহ দেশে আনতে দ্রুত 

সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিম-এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এত দ্রুত মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এজন্য তিনি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কেও ধন্যবাদ জানান।


এলাকায় খোজ নিয়ে জানাযায়, একসময় অভাব-অনটনের সংসারে কৃষিকাজ করেই কোনোমতে জীবনযাপন করতেন তাদের বাবা। ছোট ছেলে শহিদুল ইসলামের জন্মের মাত্র তিন বছর পরই মারা যান তিনি। এরপর বড় দুই ছেলেকে তেমন লেখাপড়া করাতে পারেননি মা ফরিদা বেগম। সংসারের হাল ধরতে প্রায় ১২ বছর আগে সবার বড় রাসেদুল ইসলাম পাড়ি জমান ওমানে। পরে ধীরে ধীরে ছোট ভাই শাহেদুল ইসলামকেও নিয়ে যান সেখানে।


দুই ভাই মিলে ওমানে একটি কার ওয়াশের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা কিছুটা দাঁড়িয়ে গেলে পর্যায়ক্রমে ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামকেও নিয়ে যান। পাঁচ ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল প্রবাসের আয় দিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর। প্রায় পাঁচ বছর আগে নতুন জায়গা কিনে পরিবারের জন্য একটি বাড়ির কাজও শুরু করেন তারা। তবে সেই ঘরের নির্মাণকাজ এখনও শেষ হয়নি।


এরই মধ্যে ছয় মাস আগে দেশে এসে বিয়ে করেন শাহেদুল ইসলাম। অন্যদিকে সিরাজুল ইসলামেরও দেশে এসে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল। সে উদ্দেশ্যে ছোট ভাই শহিদুল ইসলামকে নিয়ে আগামী ১৫ মে রাতে দেশে ফেরার টিকিটও কাটা হয়েছিল।


স্বজনরা জানান, দেশে ফেরার আগে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ১৩ মে বুধবার দুপুরে চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে বের হন। পথে একটি পাকিস্তানি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খান তারা। পরে কেনাকাটার জন্য বের হওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি হাসপাতালের সামনে গাড়ি পার্ক করেন।


কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপর্যয়। কোনোভাবেই গাড়ির দরজা খুলতে পারছিলেন না তারা। এসময় ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশি একটি ভয়েস গ্রুপে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভয়েস বার্তা পাঠান। তিনি এইভাবে বলেন" পারভেজ তুরা কডে। তাইলি তুই এক্কে না এডে আই। আরা চারও জন গারিত্তুন লামিন ন-পারিন। আর বদ্দা-রে আঁরা ডাক্তারের এ-ডে লই আইসসি, গারি তাগি-লি হলিক্লিনিকে লয় আইতো" কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক আর ক্লান্তি। এই ছিল তাদের জীবনের শেষ আর্তি।


পরে বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তাদের মৃতদেহের ডাক্তারী পরীক্ষা ও সব প্রক্রিয়া শেষ করে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় লাশ দেশের গ্রামের বাড়িতে পৌছে।

খুলনা  মেডিকেল হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ১০ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে  


খুলনা,  নাহিদা আক্তার লাকী, 


হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, স্বজন ও কর্মীদের মধ্যে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে সকালের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতালের ভেতরে ধোঁয়া ও আগুন দেখা যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় একে একে ১০টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। টানা চেষ্টার পর সকালের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।


তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে আগুন লাগায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়।


ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে আমাদের টিম কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।”


সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

,

 


 টেকনাফে শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার



কক্সবাজারের টেকনাফ এ ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. নবী হোছনকে (৫২) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ফিরিঙ্গি বাজার ব্রীজঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে টেকনাফ মডেল থানা এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নবী হোছনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৫ (টেকনাফ ক্যাম্প) এবং র‍্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) এর যৌথ অভিযানে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারকৃত মো. নবী হোছন টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইটেং পাড়া (আহমদ ঘোনা) এলাকার মৃত মতলবের ছেলে।


র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানা এ হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।


 

সুন্দরবনে বনরক্ষীর গুলিতে জেলে নিহত, বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা

অনুসন্ধানকারী, নাহিদা আক্তার লাকী

খুলনা: সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বনবিভাগের সদস্যদের গুলিতে আমিনুর গাজী নামে এক জেলের নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে সুন্দরবনের হেলাবিটি খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বুড়িগোয়ালিনি ফরেস্ট স্টেশন অফিসের সামনে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় জেলে ও এলাকাবাসী।

নিহত আমিনুর গাজী সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে খুলনা বনবিভাগের নলিয়ান ক্যাম্পের ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে বনবিভাগের একটি দল সুন্দরবনের হেলাবিটি খালে অভিযান চালায়। এ সময় কাঁকড়া আহরণরত জেলেদের সঙ্গে বনরক্ষীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন আমিনুর গাজী। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে বনবিভাগের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, গুলি চালিয়েছে ওয়াইল্ড টিম নয়, স্মার্ট টিমের সদস্যরা। তার ভাষ্য, জেলেদের সংঘবদ্ধ হামলা থেকে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হয়। এতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমিনুর গাজী নিহত হন।

ঘটনার পরপরই প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ এবং সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে অংশ নেন। পরে তারা নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এদিকে, নিহতের লাশ নিয়ে বুড়িগোয়ালিনি ফরেস্ট স্টেশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিরীহ জেলেকে বিনা কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

এ ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget