রাজশাহীতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিশাল সমাবেশ, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কড়া বার্তা
রাজশাহীতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (এমপি)।
তিনি বলেন, দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাস্তবায়নে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব। তরুণদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নেতৃত্ব জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে পূর্ববর্তী শাসকদের পথ অনুসরণ করছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশের রায়কে সম্মান জানানো উচিত এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিপরীতে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া বিভিন্ন জেলায় প্রশাসক নিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে। গুম কমিশন গঠনসহ অতীতের অন্যায়ের বিচার না হওয়ায়ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার নামে অনিয়মের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ এখন এসবের বিরুদ্ধে সচেতন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ। তিনি জানান, ভালো কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা থাকলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের শান্তির প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নদীগুলোকে পুনর্জীবিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন; শুধু খাল খনন নয়, নদীতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও জেলা সেক্রেটারি গোলাম মুর্তুজার যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি)।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Post a Comment