সরকারি রেটে জিলাপি’ চরের উন্নয়নে নানা দাবিতে ভাইরাল তাজু ভাই


মোঃ গোলাম মোস্তফা, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

“জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত?” গ্রামের এক দোকানিকে করা এই সরল প্রশ্নই বদলে দিয়েছে কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলামের জীবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে তিনি এখন সবার কাছে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে।


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী তাইজুল ইসলাম পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তাঁর। ঢাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে কাজের ফাঁকে শখের বসে তিনি ভিডিও তৈরি করেন।


গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিজের এলাকার নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। ভিডিওতে তাঁর সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং ‘সরকারি রেটে’ জিলাপির দাম জানতে চাওয়ার অভিনব ভঙ্গি দ্রুতই নেটিজেনদের দৃষ্টি কাড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি প্রায় ৫৫ লাখ ভিউ পায়। যেখানে আগে তাঁর ফলোয়ার ছিল মাত্র ৬ হাজার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজারেরও বেশি।


তবে এই ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া এসেছে দুই দিক থেকেই। অনেকেই তাঁর সরলতা ও আন্তরিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ করেছেন ট্রল ও ব্যঙ্গ। এ বিষয়ে তাইজুলের প্রতিক্রিয়া সরল—তিনি বলেন, তাঁর বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী, আর জীবনের কষ্ট ভুলতেই তিনি ভিডিও তৈরি করেন। নিজেকে পেশাদার সাংবাদিক দাবি না করলেও, চরাঞ্চলের মানুষের কথা তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। তবে আমি চাই আমাদের চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমানও বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তিনি জানান, রাজমিস্ত্রির কাজ করা এই তরুণ ভিডিওর মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়ায় তিনি আনন্দিত।


ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বড় তাইজুল ইসলাম এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন—এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা এবং অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের গল্প আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget