শাহিনুর রহমান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
বর্ণাঢ্য আয়োজন আর ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হলো এম কে টেলিভিশনের ১০ম বর্ষপূর্তি এবং ১১তম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠান। এই শুভক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধায় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির উপর বিশেষ অবদান রাখার জন্য বিশিষ্ট গবেষক প্রফেসর মো: মনসুর উর রহমানকে ‘সব্যসাচী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে এম কে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হাবিব ইফতেখার (মোজাহিদ ইফতেখার হাবিব) গুণী এই ব্যক্তিকে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সব্যসাচী’ পদকে ভূষিত করেন। সেই সাথে তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘সব্যসাচী’ উপাধিখচিত সনদপত্র ও মানপত্র তুলে দেওয়া হয়।
‘সব্যসাচী’ পদক ঘোষনার পর চেয়ারম্যান হাবিব ইফতেখার নিজ হাতে প্রফেসর মুহম্মাদ মনসুর উর রহমানের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে স্বীকৃতি জানান।
গুরুগাম্ভীর এই অনুষ্ঠানে প্রচারবিমুখ ৮২ বছরের সাহিত্যিক ও গবেষক তার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের উপর আলোকপাত করে এম কে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান বলেন— গুণীজনরে সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ প্রফেসর মুহাম্ম মনসুর উর রহমানের গবেষণা বাংলা সাহিত্যের কলম সৈনিক ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তিনি অমূল্য সম্পদ।
কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন— আপনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, পারিবারিক বাবা নন, আপনি একটি জীবন্ত ইতিহাস। একাত্তরের রণাঙ্গনে আপনার সাহসী অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে রংপুর কারমাইকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত আপনার বিচরণ ছিল দীপ্তিময়। অবসর জীবনেও আপনার কলম থামেনি বরং এই বয়সে এখনো কম্পিউটার ও ল্যাপটপের কিবোর্ডে আপনার আঙুলের ছেঁায়ায় সমৃদ্ধ হয়েছে আমাদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
এম কে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হাবিব ইফতেখার দুঃখ করে বলেন— এখনো জাতীয় পর্যায় সরকার ও দেশের বড় বড় স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর পড়ছে না কেন?। এখনো বাংলা একাডেমির চোখে পড়েনি, এসব শুধু প্রশ্ন তাই আমরা ছোট মানুষ হয়ে ছোট পরিসরে হলেও আমাদের মত করে এই গুণিজনকে এই সম্মানিত পদককে ভুষিত করলাম। আমাদের দেখে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত প্রকৃত গুণিজনের কদর কিভাবে করতে হয়।
এম কে টেলিভিশনের এই মহতী উদ্যোগ সুধীমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এক দশকের দীর্ঘপথ চলায় প্রতিষ্ঠানটি যেমন সংবা ও বিনোদনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে, তেমনি শেকড় থেকে তুলে এনে প্রতিভাবান গুণীজনদের মূল্যায়নের মাধ্যমে সংস্কৃতির প্রসারেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
Post a Comment