পার্বতীপুরে এম কে টেলিভিশনের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকী উদযাপন


শাহিনুর রহমান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

‘শেকড়ের কথা গুলো দাঁড়িয়ে দেখলে, সমাজ তখন সভ্যতার হাসি হাসে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আনন্দঘন পরিবেশ ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এম কে টেলিভিশনের গৌরবোজ্জ্বল ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এম কে টেলিভিশনের ১০ম বর্ষপূর্তি ও ১১তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে পার্বতীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এম কে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হাবিব ইফতেখার। এ সময় তিনি বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আল মামুন মিলন ও কমলিকা সরকারের যৌথ সঞ্চালনায় এম কে টেলিভিশনের দর্শক ফোরামের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃত্তি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সঙ্গীত প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা, কবি ও সাহিত্যিক প্রফেসর মোহাম্মদ মনসুর উর রহমানকে। এ সময় তাকে ‘সব্যসাচী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সার্জারি বিভাগ) চিকিৎসক ডা. রবিউল আলম, পার্বতীপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আতাউর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক শ. ম. আ. হায়দার, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম রিপন, দৈনিক সমকাল পত্রিকার পার্বতীপুর প্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান, মাবকণ্ঠের পার্বতীপুর প্রতিনিধি মামনুর রশিদ, মাইটিভির প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এম কে টেলিভিশনের দর্শক ফোরামের আহ্বায়ক নুর আলম সিদ্দিকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রংপুর বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীত শিল্পী ও সাংবাদিক ওয়াহেদুল ইসলামের পরিচালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়, যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি করে।

প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা, কবি ও সাহিত্যিক প্রফেসর মোহাম্মদ মনসুর উর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, এম কে টেলিভিশন দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশ ও জাতির সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমে একটি আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘শেকড়ের কথা গুলো দাঁড়িয়ে দেখলে, সমাজ তখন সভ্যতার হাসি হাসে’—এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে এম কে টেলিভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, এম কে টেলিভিশন শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা বিকাশেও ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সময়ে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের অনিয়ম, অবিচার ও সত্য ঘটনাগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে এম কে টেলিভিশন গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছে।

তিনি এম কে টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা, সাংবাদিক, কলাকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতেও এম কে টেলিভিশন দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণে একইভাবে কাজ করে যাবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শেষে তিনি এম কে টেলিভিশনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget